মব-সোসাইটি এবং মুক্তচিন্তার ভয়!
- Ashiqur Rahman Khan
- Dec 20, 2025
- 3 min read
Updated: Mar 6

বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে সাহিত্য, শিল্প, মুক্তচিন্তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। রবীন্দ্রনাথ থেকে হুমায়ুন আহমেদ, আহমদ ছফা থেকে জাফর ইকবাল - এইসব লেখকের সৃষ্ট সাহিত্যিক পরিসর একসময় ছিল আমাদের জাতীয় গর্ব।
কিন্তু আজ সেই পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। উগ্রতা, মব-সোসাইটির উত্থান, সামাজিক চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা যেন একটি সংগঠিত বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
“এখন এসব বই প্রকাশ করা নিরাপদ নয়”
সম্প্রতি আসন্ন বইমেলায় আমার একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (sci-fi) বই প্রকাশ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু প্রকাশকের কাছ থেকে যে উত্তর পেলাম, তা শুনে আমি সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
তিনি বললেন - “এখন এসব বই প্রকাশ করা নিরাপদ নয়।”
আরও জানালেন, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভাবুন তো - যে বইমেলা আমাদের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিদিন অফিস শেষে ছুটে যেতাম, নতুন বইয়ের গন্ধে ডুবে থাকতাম, লাইক-মাইন্ডেড পাঠকদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতাম, সেই মেলাই আজ অনিশ্চয়তার ছায়ায় ঢাকা।
তখন মনে হয়, আমরা কি ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে:
আমার প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না
লেখা প্রকাশ করাই হয়ে উঠবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ
ফেব্রুয়ারির প্রাণের বইমেলা হয়ে উঠবে আতঙ্কের স্থান
কে বই লিখতে পারবে আর কে পারবে না - তার নীরব তালিকা তৈরি হবে
আমার প্রশ্ন - কি হলো আমাদের দেশের সংস্কৃতির?কোথায় গেল সেই মুক্ত বাতাস, যার মাঝে আমরা বড় হয়েছি?
দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড: ভয়কে বাস্তব করে দেওয়া একটি ঘটনা
এই উদ্বেগকে আরও গভীর করে তুলেছে একটি নির্মম ঘটনা - দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক মাধ্যমে একটি মিথ্যা শতিম-এ-রাসূল অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি পোস্টই যথেষ্ট ছিল মানুষের আবেগকে উসকে দেওয়ার জন্য।
এরপর যা ঘটে, তা ছিল ভয়াবহ।
দীপুকে জনতার সামনে আক্রমণ করা হয়। তাকে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়, দীপু এমন কোনো মন্তব্যই করেননি।
কোনো সাক্ষী নেই।কোনো প্রমাণ নেই।সবই ছিল গুজব।
এটাই মব-সোসাইটি, যেখানে মানুষের মৃত্যু সত্যের চেয়ে দ্রুত আসে।যেখানে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দামে একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।
মব-সোসাইটি: সমাজবিজ্ঞানের আলোকে একটি ব্যাখ্যা
সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয় Moral Panic - যেখানে কোনও অভিযোগ বা গুজবকে কেন্দ্র করে সমাজ সম্মিলিত এক “নৈতিক আতঙ্ক” তৈরি করে এবং যুক্তিহীন সিদ্ধান্ত নেয়।
মোব-সোসাইটি তৈরি হয় তিনটি ধাপে:
গুজব → ভয় → আবেগ
অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়
আবেগ → সমষ্টিগত ক্রোধ
ভিড় ক্রাউড-সাইকোলজির কারণে ব্যক্তিগত বিবেচনা হারায়
সমষ্টিগত ক্রোধ → সহিংসতা
আইন, রাষ্ট্র, পুলিশ - সবকিছু পেছনে পড়ে যায়
এই বাস্তবতাকে কিছু গবেষক বলেন “post-truth mob governance” যেখানে ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
কখনো ভেবেছেন মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যকেই কেন টার্গেট করা হয়?
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো - মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান ও সাহিত্যই কেন প্রায়শই আক্রমণের লক্ষ্য হয়?
কারণ স্বাধীনতা মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়। আর প্রশ্ন শুরু হলে ভয়-নির্ভর ক্ষমতার কাঠামো টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
ফলে বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা প্রায়ই -
ধর্মীয় উগ্রতার সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে
সামাজিক চাপের চোখে “ঝুঁকিপূর্ণ” হয়ে ওঠে
সৃষ্টিশীলতাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়
এই কারণেই মুক্তচিন্তা অনেক চরমপন্থী মতাদর্শের কাছে নিরাপদ নয়।
কেন কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকে?
মব-সোসাইটি সাধারণত সেই মানুষদেরই লক্ষ্যবস্তু বানায়, যারা সমাজের প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে অবস্থান করে। যেমন -
নাস্তিক
ধর্মীয় সংখ্যালঘু
তরুণী ও কর্মজীবী নারী
LGBTQ+ সম্প্রদায়
বিজ্ঞানভিত্তিক লেখক
রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সমালোচক
যারা প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত
এরা সমাজের “power structure”এর বাইরে থাকে।তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাঁড় করানো সহজ।তাদের রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া কঠিন।
একজন লেখকের নয়, একজন নাগরিকের ভয়
সেদিন রাতে আমি নিজেকে কিছু প্রশ্ন করছিলাম -
আমি কি আমার মুক্তচিন্তা প্রকাশ করতে পারব?আমি কি নিরাপদ থাকব?লেখালেখি কি একদিন অপরাধ হয়ে যাবে?
এই প্রশ্নগুলো শুধু একজন লেখকের নয়, একজন উদ্বিগ্ন নাগরিকের।
তবুও সেই ভয়ের মাঝেই ধীরে ধীরে একটি প্রতিজ্ঞা জন্ম নিল।
ভয় আমাকে থামাতে পারবে না।
একটি গুজব, একটি পোস্ট, একটি ভিডিও, আমার জীবনও হয়তো কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করলে স্বাধীন চিন্তার ভবিষ্যৎই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
কারণ স্বাধীনতা, চিন্তা এবং যুক্তি ছাড়া কোনো সমাজ এগোতে পারে না।
শেষ কথা
আজ যে ভয়, যে নীরবতা, যে উগ্রতা আমাদের ঘিরে ধরছে - তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা, আপসকামী রাজনীতি, নিষ্ক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুবিধাভোগী শক্তিগুলোর যৌথ নির্মাণ। এবং এই অবস্থার চূড়ান্ত মূল্য দিচ্ছে সাধারণ নাগরিক - লেখক, নারী, সংখ্যালঘু, তরুণ, ও যেকোনো মুক্তচিন্তাবাদী মানুষ।
আমরা যারা ভাবি, প্রশ্ন করি, লিখি - তাদের দায়িত্ব এখন আরো অনেক বেশি।
কারণ ভয় যখন আক্রমণ করে, তখন প্রতিটি সাহসী উচ্চারণই হয়ে ওঠে বিদ্রোহ।
প্রতিটি বই হয়ে ওঠে একটি নতুন পতাকা।
প্রতিটি প্রশ্ন হয়ে ওঠে একটি নতুন প্রতিরোধ।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------



Dhormo nia ja ja likhsos, deshe ai eibar, mob society, mob create kemne kore tore eibare bujhanu hobe. Jemne ei malowan dipu morse, emne toreo poranu hobe.
Tor bhoy tore thamabey na???? Just wait and watch tore morar er bhoy kemne dekhaite hoi, sample ditasi soon
Beshi kore likh ar nijer mrittu daikka an. jotobar Allah er aganist e likhbi toto ta kop khaibi. Inshaaallah!
Didn’t you live in Mohammadpur? Next time mob will be waiting for you.
যে হাত দিয়া টাইপ করোস, সেই হাত দুইটা কাটমু, এরপর তোর কল্লা ফালামু, তোর মাথাতা থেতলাইয়া ফেলতে হবে, যাতে তোর ব্রেইন এর কোনো অংশ বাকি না থাকে! এরপর তোর বৌয়ের জিহবা কেটে পশ্চাদ্দেশে ঢুকানো হবে এরপর গরম লোহা ভোদার ভেতরে ঢুকাইয়া ঘুরানো হবে যাতে তিলে তিলে মোর যায়! তোরা এমন মৃত্যু ডিজার্ভ করোস! জাস্ট একবার দেশে আয়, আমার এই স্বপ্ন আমি পূরণ করমু!