ইসলাম ধর্ম বনাম নারী স্বাধীনতা!
- Ashiqur Rahman Khan
- Jan 20
- 3 min read
Updated: Feb 8

অনেকে মনে করে হিজাব বা মাথা ঢাকা শুধুই ইসলামের একটি ধর্মীয় চর্চা, যা কিনা সকল মুসলিম ধর্মী নারীদের পালন করা সুন্নাত কিংবা ফরজ বলে প্রচার করে থাকে ধর্ম ব্যবসায়ীরা! আদতে সত্যিটা অনেক জটিল এবং অনৈতিক। ব্যক্তিস্বাধীনতার দিক থেকে বলতে গেলে, হ্যাঁ, অনেক দেশে নারীরাই নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরে, সেটা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা নিজের মতো জীবনযাপনের অংশ - সে বিষয়ে আমার কোন মতামত নেই। কিন্তু বহু দেশেই সেটা নারীদের চাপের মুখে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আর সেটা আমার মত একজন মানুষ যে কিনা ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানবিকতায় বিশ্বাসী, ধর্মের ধাঁর না ধারা এক নাস্তিকের কাছে একদমই অযৌক্তিক, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন!
এক্ষেত্রে চরমপন্থি ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ইরানকে বিনা বাহুল্যে উচ্চতর উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে। সেখানের আইন মেয়েদের মাথা ঢাকাকে বাধ্যতামূলক করেছে, আর সেই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে “মোরালিটি পুলিশ” নামে বিশেষ শাসন বাহিনী গঠন করা হয়েছে যারা মেয়েদের আটকান, গুলিবিদ্ধ করেন, কখনও কখনও অত্যন্ত কঠোর দণ্ড দিয়ে থাকেন, এমনকি ঠিকভাবে হিজাব না পরার কারণে মেয়েদের দিনদুপুরে গ্রেপ্তার করেন - আর এই নিষ্ঠুর নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে! চিন্তার বিষয়, বাংলাদেশে আসন্ন বছরে এমন কিছুই হয়তো হতে যাচ্ছে , যা কিনা ইসলামিক র্যাডিক্যাল বাহিনিরাই হয়তোবা নিয়ন্ত্রণ করবেন!
এবার একটু ইরানের কন্টেক্স দেই আপনাদের --- ২০২২ সালে মাহসা আমিনি নামের এক ২২ বছর বয়সী তরুণীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে “হিজাব ঠিকমতো পরেনি” বলে, এবং পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই একটি বিশাল “Women, Life, Freedom (Persian: Zan, Zendegi, Azadi; Kurdish: Jin, Jîyan, Azadî)” স্লোগান নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেক নারী হিজাব খুলে ফেলে, নেটে ভিডিও পোস্ট করে, কর্মসূচিতে অংশ নেয় - কারণ তাদের দাবি ছিল, এটি তাদের শরীরিক স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ। এটা শুধু একবারের ঘটনার নামমাত্র প্রতিবাদ ছিল না - সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা নিজে নিজে ছোট ছোট প্রতিরোধের কাজ শুরু করে। তারা মাথার স্কার্ফ পেছনে ঠেলে দেয়, খোলা অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়, সাধারণ জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। ইরানের সমাজে এটা একটা বড় বিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে - হিজাব আর শুধু কাপড় নয়, এটা নিজের শরীর ও নিজের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতীক।
আর শুধু গালে-পিঠে টক্কর নয় - গত বছর ইরানের কিশ দ্বীপে প্রায় ২০০০ জন নারী হিজাব ছাড়া একটি ম্যারাথনে অংশ নেন, আর সেই ইভেন্টের অর্গানাইজারদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া এমন খবরও এসেছে যে একটি গানকে কেন্দ্র করে হিজাব পরিধান না করতে উৎসাহিত করায় সেই জনপ্রিয় গায়ককেও সরকার কঠোরভাবে দণ্ড দিয়েছে, তাকে প্রায় সাতচার ফাঁস মারা হয়েছে আর কিছু বছর কারাদণ্ডও হয়েছে।
এইসব ঘটনা দেখে স্পষ্টত হয় যে,যখন হিজাবকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানানো হয়, যখন কেউ নিজ ইচ্ছা ব্যতীত চাপের মুখে পরিধান করে, তখন সেটা কোনো শান্তির বা আত্মিক গল্প নয়, সেটা নিয়ন্ত্রণ আর দমনমূলক সহিংসতার প্রতীক হয়ে ওঠে। যখন কেউ নিজের বিশ্বাস বা নিজের কমফোর্ট অনুযায়ী হিজাব পরে — সেটা তার নিজস্ব স্বাধীনতার প্রকাশ, তাকে কোনও শাস্তির ভয় দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা একেবারেই অনুচিত।
বাংলাদেশেও আমরা এইরকম এক চাপা ভয় দেখতে পাচ্ছি। আজ নারীরা শিক্ষার সুযোগ, কাজের সুযোগ এবং নিজস্ব স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছে, কিন্তু যদি আসন্ন নির্বাচনে জামাত দল জাতীয় রাজনীতিতে আসে, তারা বাকি ইসলামিক চরমপন্থি দেশগুলোর মতন ধর্মীয় চাপ ও নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি হতে পারে - এবং সেটা হলে তাদের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত হবে, এমনকি সাধারণ জীবনযাপনেও বাধা আসবে!
এত কিছু লিখার কারণ হলো, আমার বান্ধবী ও ছোট বোন যারা বাংলাদেশে রিসেন্টলি ঘুরতে গিয়েছে, তাদের মাঝে এই চাপা ভয়টা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। আমার স্ত্রীকেও দেখলাম এই বিষয়ে তার ফ্রেন্ড সার্কেলে কথাবার্তা বলছে।
অনিচ্ছাস্বত্তেও কানে এলো আমার স্ত্রীর একটি লাইন –
“আমরা কয়েকজন খুবই বাবল সমাজে বাস করি, যারা নারী স্বাধীনতা নিয়ে ভাবি, বিশ্বাস করি। আদতে আমাদের বাংলাদেশের সমাজ প্রচণ্ড রকমের ইসলাম চরমপন্থি। এরা চায় বাংলাদেশে শরিয়া আইন কায়েম হোক, এবং মেয়েদের সকল প্রকার স্বাধীনতা শুষে নেওয়া হোক।”
আমি তার মুখ থেকে এই কথা শুনে পুরো বিকেল ভাবতে লাগলাম। আসলেই তো, আমারই কত বন্ধু আজ নিউ ন্যারেটিভ জামাতি/ ইসলামিক র্যাডিক্যাল হয়ে গেছে, যারা টিনেজ বয়সে কোন ধর্মকর্মের ধার ধারতো না!



Tor mukh bohut barse, tui wait kor, tor kharap din ashtace. tumar ar tumar bou er gua mara khawar din astace.
সমস্যা নাই, দেশে আয়.... তোর মা বোন বৌরে রেপ কইরা বুঝায় দেয়া হবে নারী স্বাধীনতা কি জিনিস
শরিয়া আইনি দরকার এই দেশে! যাতে তোর বৌয়ের মতন বেনামাযী জাহান্নামী মহিলারা লাইনে আসতে পারে!
Tui jemon, tor bou ou tamon. Duitare guli koira mathar khuli falai dewa uchit.bloody scoundrel.
Bhai, emon ushkani dewa lekha bondho koren! otherwise apnio targeted hoben.